Jobs News

ভাইভার প্রস্তুতি

কম সময়ে কীভাবে চাকরির ভাইভার প্রস্তুতি নেবেন | পরামর্শক–জেটা ওয়ারউড

প্রতিনিয়তই চাকরির প্রতিযোগিতা বেড়ে চলেছে। একটি পদের চাকরির জন্য অনেকেই যোগ্য থাকেন। প্রতিযোগিতাও হয়ে থাকে যোগ্যদের মধ্যেই। নির্ধারিত সময়ে পরিবার ও বিভিন্ন কাজসহ নানা কারণে অনেক সময় চলে যায়। ভাইভার প্রস্তুতি সেভাবে নেওয়া হয় না। আর তাই অনেকের মধ্যে একজন হওয়ার লড়াইয়ে নিজেকে তুলে ধরতে হয় একটু অন্যভাবে।

অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির ভাইভা হয় অল্প সময়ের নোটিশে। সে ক্ষেত্রে কীভাবে ভাইভা দেওয়ার প্রস্তুতি নেবেন। তার একটি ধারণা প্রদান করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ক্যারিয়ার পরামর্শক জেটা ওয়ারউড।

প্রস্তুতি হলো সব সময়ের জন্য নিজেকে তৈরির উত্তম পন্থা। সফলতার জন্য প্রস্তুতি আর প্রস্তুতির জন্যই সফলতা। এখনই সময় নিজেকে তৈরি করার। গাড়িতে কিংবা অন্য যে কোন কাজে আছেন সব সময়টুক প্রস্তুতির। সময়কে লক্ষ্য করে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। আর এ জন্য সর্বদা সঙ্গে রাখতে হবে একটি নোটবুক ও কলম। যা কিছু শিখবেন, দেখবেন, টুকে রাখবেন নোটবুকে। এ পরামর্শ দিয়েছেন জেটার। আর আলোচনায় থাকছে ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন—

কেন আপনাকেই বেছে নেওয়া হবে:

ভাইভা বোর্ড যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেন আপনাকেই আমরা এই পদে যোগ্য হিসেবে বেছে নেব।  আপনিই কেন নিজেকে এই পদের জন্য যোগ্য দাবী করেন। এই ধরণের প্রশ্ন যে কোন ভাইভাতেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই রকমের প্রশ্নের উত্তরে প্রার্থীর জবাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরই মধ্যে আপনি অনেক চাকরির ভাইভা অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে তারা আপনার নিকট জানতে চাইছেন কেন অন্যপ্রার্থীর চেয়ে আপনি এই চাকরির জন্য বেশি যোগ্য।এমন প্রশ্নে কাজটি এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আপনি কতটুকু জ্ঞান রাখেন তাও জানতে চাওয়া হয়। তবে উত্তরের প্রথমেই অল্প কথায় প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা, তাদের পণ্য, মার্কেটিং এবং ভোক্তা নিয়েও বলা যায়।আপনাকে তাদের ব্যবসা নিয়েও কথা বলতে হবে। আর তারপরেই এই সম্বন্ধনীয় কাজের দক্ষতা থাকলে তাও বলতে হবে। আর যে পদটির জন্য ভাইভায় অংশ নিয়েছেন তার সম্পর্কে যে আপনি ভাল বোঝেন এবং জানেন তা প্রত্যেক কথায় তুলে ধরতে হবে। আর এই জাতীয় কাজের দক্ষতা বলার সময় দুএকটি উদাহরণও দিতে হবে। সেক্ষেত্রে উদাহরণও অনেক থাকতে হবে। কারণ ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা আরো বেশি কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে সেভাবেই তৈরি হতে হবে। যে পদের জন্য ভাইভা দিচ্ছেন উক্ত পদ সম্পর্কে কোন অর্জন থাকলে তা নির্দ্বিধায় বলতে হবে। এই সম্পর্কিত জবাবটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের
আপনার কাছে জানতে চাওয়ার একটি দিক হচ্ছে আপনার দক্ষতা এই পদের কাজের জন্য কোন বাড়তি কিছু যোগ করবে কিনা। আপনার উত্তর এমন হওয়া চাই যেন তারা তাদের পদের জন্য যে লোকটি দরকার সে লোকটি যেন আপনিই। তাই তাদেরকে একটা পরিষ্কার ধারণা দেন যে আপনার
দক্ষতা কিভাবে আগের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়িয়েছে; তার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে হবে।
নতুনদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা, প্রথমবারের মতো যারা ভাইভা বোর্ডে ভাইভা দিচ্ছেন তারা তাদের প্রচেষ্টা কিভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে সেটার একটি পরিকল্পনা উল্লেখ করতে পারেন।তাই এক্ষেত্রে আপনি দু-তিনটা উদাহরণ তুলে ধরতে পারেন।

নিজের শক্তি এবং দূর্বলতার জায়গাগুলো কি :

আপনার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবগুলোর ক্ষেত্রে সত্য বলাই শ্রেয় কারণ এই প্রশ্নগুলো সত্যিই একটু কৌশলী প্রশ্ন তাই এইজন্য করাও হয় এইধরনের প্রশ্ন। তাই বুদ্ধির কথা বলতে গেলে কমপক্ষে তিনটি কথা তুলে ধরবেন বিস্তারিতভাবে। আসলে এই প্রশ্নের জবাব খানিকটা পূর্বের করা প্রশ্নের জবাবের সাথে অনেকটাই মিলে যাবে। এক্ষেত্রে এই প্রশ্নের জবাব হতে পারে, আমি যখন নতুন কোন প্রজেক্টে কাজ আরম্ভ করি তখন অনেক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়েই শুরু করি। এক্ষেএে অনেক কিছুই শিখি ও গ্রুপের প্রত্যেককে নিয়ে কাজ করে সফলভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

আপনি কেন চাকরি ছাড়লেন :

নতুনদের জন্য মূলত এই প্রশ্নটিই করা হয় না যারা পূর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তাদেরকে প্রধানত করা হয়। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় ভালো ও সুনামধন্য কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে আপনি নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে গেলেন। সেক্ষেএে আপনার কাছে জানতে চাইবে কেন আগের চাকরি ত্যাগ করলেন এক্ষেত্রে কিছু কথা যেমন- বেশি বেতন এর আসা, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্সুরেন্স, বস ভালো ছিল না এগুলো না বলাই উত্তম। হয়তো এগুলোই কারণ তবুও এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে সবকিছুই ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই ভালো। এই ধরনের প্রশ্নের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই কাজে আপনার আগ্রহ, নতুন কিছু শেখার উৎসাহ এবং ক্যারিয়ার সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কারণটি। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে আসলে এই প্রশ্নের জন্য যে উত্তর ভাইভা কর্তৃপক্ষ জানতে চায় তা হলো, নতুন কিছু সংযুক্ত করতে এখানে আসা বেতন নয়।

ডেল্টা ওয়ারউড মধ্যপ্রাচ্যের একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক। এছাড়াও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরো একটি কোচিংয়ে পাঠদান করান। ওনার অনেক ছাত্রই বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ করে সফলতা অর্জন করেছেন।

jobs News

লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন